এক প্লেট ভাত পর্ব_৪_৫

 এক_প্লেট_ভাত

#পর্ব_4_5

#লেখক_আকাশ_দাস


সবাই চিৎকার করার কারণ জানতে চান!তাদের মধ্যে চাচা ছিলেন

কি হিয়েছে এভাবে চিৎকার করছো কেন?


মেয়েটি ফুপিয়ে কেঁদে উঠে,এই ছে ছেলেটি আ আমাকে বাজে ইশারা দিয়েছে।আমার হাত ধরে জোড় ক ক করে...


আর কিছু বলতে হলো না।সবাই বুঝতে পারলো মেয়েটি কি বলতে চাচ্ছেন।

আমি:আ আমি কিছু করিনি বিশ্বাস করুন,আহ্...

আর কিছু বলতে পারলাম না।সবাই মিলে আমাকে মারতে লাগলেন।


চাচা:আমি ভাবতে পারিনি।তুই এতোটা খারাপ ছি।তোকে যেন আর এই গ্রামে না দেখি। এই বলে চাচা চলে গেলেন।

ঠোঁট কেটেছে রক্ত বের হচ্ছে।সারা শরির ব্যথায় ভালো করে হাঁটতে পারছিলাম নাহ্।এরমধ্যে বৃষ্টি মৌসুল ধারে পড়ে চলেছে।পায়ে অসজ্জ যন্ত্রণা, মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে কপাল ভেয়ে রক্ত পড়ছে।আমার মতো জীবন যেন কারো না হয়।বিনা দুষে মানুষের হাতে পিটানি খেতে হলো যেখানে আমার কোন দুষ ছিল নাহ্। অনেক কষ্টে রেলস্টেশনে আসলাম। গ্রামের রেলস্টেশনে তেমন মানুষ নেই।আজ এখানেই রাত কাটাবো।জোরে জোরে বাতাস বইছে অনেক ঠান্ডা লাগছে।শরির কাপছে এখন মাথা থেকে রক্ত বের হওয় অনেকটা কমেছে,তবে ব্যথা খুব করছে।পেট মোচড় দিয়ে উঠে।আহ এখন খাবার পাই কোথায়!আগে একটা কাজ খুঁজে বের করতে হবে।রেলস্টেশনে সেই রাতটি কাটিয়ে দিলাম।পর"দিন সকালে উঠে কাজ খুঁজতে লাগলাম।অনেক জায়গায় কাজ চাইলাম কেউ দিল।নাহ অনেক খুঁজে একটা রেস্টুরেন্টে কাজ পেলাম।


_2️⃣দুইদিন কেটে গেল🕝


এই দু'দিন ধরে  দোকানে খাবারের জন্য অনেক কষ্ট করে সারাদিন খেটে, শেষে এক প্লেট খাবার খেতে পারতাম।হাইরে জীবন এক প্লেট ভাতের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে।শেষ বেলায় এক প্লেট বাসি খাবার জুটতো।তা-ও কোন রকমের পেট ভড়তো।খিদার জ্বালা বড় জ্বালা যে না খেয়ে থেকেছে সেই জানে।মাঝে মধ্যে বলতে ইচ্ছা করে_আমার পেট ভড়েনি আমাকে আরেক প্লেট ভাত দেন।কিন্তু বলতে পারি না,যদি কাজ থেকে বের করে দেয় তার ভয়ে।সারাদিন খেটে আজ সেই ডাল ভাত।চুপচাপ খেয়ে"নিলাম তাও পেটের খিদা ভরেনি।এভাবে জীবন চলে নাহ্।ভাবলাম খাবার চুরি করে খাবো।যেই ভাবা সেই কাজ।ওহ আমি ভুলে গেছি আপনাদেরকে বলতে যে আমি এক রেস্টুরেন্টে কাজ করি।কিচেন থেকে টপ করে দুই টুকরো মাংস আর ভাত প্লেটে তুলে নিলাম।আমি একটা জিনিস ভুলে গিয়েছিলাম রান্নাঘরে সিসিটি ক্যামেরা লাগানো ছিল।আর মালিক আমাকে দেখে ফেললেন।আর-কি হবে মা-র ধুর করে বের করে দিলেন।আমাকে যখন মারছিলেন তার আগেই একটা মাংস টুকরো হাতের মোঠোতে নিলেছিলাম।অনেক দিন ধরে মাংস খাই না।লাস্ট কবে খেয়ে ছিলাম তা মনে নেই।ঠোঁট কেটে গেছে অনেক পুড়াচ্ছে।তাও মাংস খেতে লাগলাম।আরো দি"গুন ঠোঁট জ্বলতে লাগলো।মরলে মরব। তাতে কি অনেক দিনের ইচ্চে ছিল মাংস খাবো সেটা পুরন করতে পারলাম এটাই বেশি।অনেকে ভাবছেন আমি পাগল।আরে কিছুদিন না খেয়ে দেইখেন কেমন লাগে।তখন পাগলামি করতে থাকবেন খাবারের জন্য।মালিকটা ভালো ছিল বেশি মারেনি হি হিহি😅


হটাৎ কোথা থেকে একজন ব্যক্তি আমার সামনে এসে বলতে লাগলেন_

ব্যক্তিটি তবে কথা শুনে মনে হলো একটি মেয়ে


মেয়েটি: এই ছেলে তোর কাছে যা আছে বের কর আর আমাকে দিয়ে দে। না হলে এই ছুরি তোর পেটে ঢুকিয়ে দিব। 

মেয়েটি পিছন থেকে ছুরিটা বের করে কথা গুলো বললেন।


আমি:আমার কাছে দিয়ার মতো কিছু নেই আমি একজন ফকির যে কিনা রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়ায়।আমাকে দেখে কি মনেহয় তেমন কিছু পাবেন।আজ-কালের চোরদের নজর হা হা।


মেয়ে:এই এই হাসবি নাহ, দাঁত ভেঙে ফেলবো।তোর কাছে যা আছে তাই বের কর বলছি।


আমি:ফালতু মেয়ে,বললাম না আমার কাছে কিছু নেই এই গায়ের ছিড়া পোশাক ছাড়া আর আপনার হাতে যে পাস্টিকের ছুরি তা দেখে বাচ্চা ছেলেও ভয় পাবে নাহ্ যত্তসব ফালতু।

মেয়েটির পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে এগুতে লাগলাম।কিছুদূর আসার পর


।প্লিজ এমন করবেন নাহ্ বাচাও বাচাও😭😭😭 হটাৎ পিছন থেকে সেই মেয়েটির চিৎকার,পিছনে শুনে ঘুরে তাকালাম।কিছু বকাটে ছেলে মেয়েটির হাত ধরে জোর করে কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।আর মেয়েটি বাচাও বাচাও বলে চিৎকার শুরু করেছেন।আমার বুঝতে অসবিধা হলো না।তারা মেয়েটিকে নিয়ে কি করতে চাচ্ছে।মেয়েটাকে কি বাচানো উচিৎ হবে আমার শরিরের যে অবস্থা আর তারা পাঁচজন আর আমি একা।আশেপাশে তাকিয়ে কিছু খোঁজতে লাগলাম।হ্যা পেয়েছি আমার পাশেই একটা ফাটা বাঁশের টুকরো পড়েছি।সেটা তুলে নিলাম।চুপিচুপি পিছন দিয়ে গিয়ে তাদের উপর হামলা করলাম।তারা আমাকে খেয়াল করেনি।সবাই মা-র খেয়ে পালিয়ে গেল।আমি আবার হাঁটতে লাগলাম।পিছন থেকে মেয়েটি আমার সামনে এসে বলতে লাগলেন_আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,আজ আপনি না থাকলে আমার যে কি হতো ভাবতে বুক কেপে উঠে।


হা হা কি আজব দুনিয়া কিছুক্ষণ আগে যে আমাকে মারার ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা লুট করতে চেয়েছিল।আর এখন সে আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে😅।মেয়েটি আবার বলতে 

লাগলেন...


আমি খুব খুব দুঃখীত তখন-কার বেব্যহারের জন্য😔"আসলে পেটে খিদার জ্বালা,তিনদিন ধরে মুড়ি খেয়ে বেঁচে আছি।আমাদের এতিমদের কি ভালো কিছু খেতে মন চাই নাহ্! তার জন্য এসব করেছি।


মেয়েটির কথা শুনে তার দিকে ভালো করে খেয়াল করলাম

মেয়েটি ভয়ে কাপছেন।একটু আগের ঘটনার জন্য হয় তো। 


আমার কিছু বলতে ইচ্ছা করছে নাহ্।ঠোঁট জ্বালা করছে।আমি আবার মেয়েটির পাশ কাটিয়ে চলতে লাগলাম সামনের দিকে।মেয়েটিও আমার পিছু হাঁটতে লাগলেন।


আমি:কি সমস্যা!যা বলার ছিল বলছেন এখন কি চাই আমার পিছু নিচ্ছেন কেন(কথা গুলো বলতে একটু কষ্ট হচ্ছিল)


ইয়ে মানে আমার খুব ভয় করছে আপনার সাথে কি সামনে এগিয়ে যেওতে পারি?


 মেয়েটি কাদো কাদো গলায় বললেন


আমি:আমার সাথে কই যাবেন আমার তো যাওয়ার কোন রাস্তা নেই।


মেয়েটি:আপনি যেখানে যাবেন সেখানেই না হয় গেলাম।


ওকে তবে কোন কথা বলা যাবে নাহ্।


মেয়ে:আচ্ছা


আকাশে মেঘ☁ করেছে।মাঝে মধ্যে আকাশে মেঘ ডাকছে

হটাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকালো।মেয়েটি ভয় পেয়ে চিৎকার

দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।আহ্ ব্যথায় শব্দ করে উঠলাম।শরিরে অনেক জায়গায় ক্ষত।মেয়েটি যখন বুঝতে পারলেন আমাকে জড়িয়ে ধরেছে তখন তার তাড়ি আমাকে ছেড়ে দিলেন।মেয়েটি মাথা নিচু করে ফেলল। মেয়েটি বোধ হয় লজ্জা পেয়েছে।দূর কখন থেকে মেয়ে মেয়ে বলছি তার নামটা জেনে নেই আগে।


আমি:আমি আকাশ"আপনার নাম কি?


মেয়েটি মাথা নিচু করেই বলল...না নাম উহু বন্যা


আমি:ওহ্ সুন্দর নাম!


আচ্ছা সামনে মনে হচ্ছে একটা  চায়ের দোকান তবে বন্ধ।সেখানে মাচা পাতা আছে আর উপরে টিনের চাল সেখানে আজ রাতটা কাটাতে হবে।মাচায় গিয়ে বসে পড়লাম।বন্যা মেয়েটি আমার থেকে দুরত্ব বুজায় রেখে মাচায় বসলেন।পাশের খামের উপর হিলান দিয়ে ঘুমাবার চেষ্টা করলাম।তখনি মেঘের বিকট শব্দ।বন্যা আবার আমাকে ভয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।জীবনের প্রথম কোন মেয়ে জড়িয়ে ধরেছেন যেখানে রোমান্টিক অনুভুতি হবে।সেখানেই ব্যথায় চিৎকার দিয়ে উঠলাম। 


বন্যা: খুব খব দুঃখীত এভাবে আপনাকে জড়িয়ে ধরা উচিৎ হয়নি।

কে জানতো আপনি এতো দুর্বল একটু জড়িয়ে ধরেছি বলে ব্যথায় মরে যায়(বন্যা মনে মনে)


—সকাল বেলা🌄


সকাল বেলা মেঘ ডাকার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চার পাশে তাকিয়ে দেখলাম মৌসল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে।দেখে বুঝা যায় না এখন সকাল।বন্যার দিকে খেয়াল করলাম।মেয়েটি এক জায়গায় মুখ মলিন করে চুপচাপ বসে আছে।আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখে বললেন...


বন্যা:আপনি ঘুম থেকে উঠেছেন তাহলে।


আমি:হ্যাঁ।আপনি এভাবে মুখ মলিন করে বসে আছেন কেন?


বন্যা:না তেমন কিছু নাহ। আসলে অনেক খিদে পেয়েছে তার জন্য হয় তো এমন দেখাচ্ছে।


আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম নাহ্।আমারো খিদে কিছুটা পেয়েছে।কিন্তু চারপাশে বৃষ্টি হচ্ছে খাবারের বেব্যস্থা কিভাবে করব! চায়ের দোকানের পিছন দিয়ে একটা নদী চলে গেছে।হটাৎ উপরে কিছু একটা পড়লো।সেই জিনিসটা টিনের চাল দিয়ে ঘরিয়ে  ঘরিয়ে মাটিতে পড়ল।একটা বড় পাকা আম পড়েছে।বন্যা গিয়ে টপ করে মাটি থেকে আমটি তুলে নিল।তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমটি দুই ভাগ করে,আমার দিকে এক ভাগ এগিয়ে দিলেন।


আমটা খব মিষ্টি ছিল।

হুমম'তবে আরেকটা খেতে পারলে ভালো হতো।

হুম!


কিছুক্ষণ হলো বৃষ্টিটা একটু কমেছে।বৃষ্টি হচ্চে না বললেই চলে।গাছের পাতায় জমা পানি পড়ছে মাটিতে।এখন খাবারের বেবস্থা করতে হবে!আমি আর বন্যা রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম।বন্যা ভালো করে হাঁটতে পারছে নাহ্।অনেক দূরে চলে আসলাম আশেপাশে তেমন কেউ নেই বা ঘর বাড়ি নেই আর হাটতে ইচ্ছে করছে নাহ্। হটাৎ কিছুটা দূরে একটা বাড়ি দেখতে পেলাম।বাড়ির ভিতর থেকে অনেক মানুষের চেচামেচি শুনা যাচ্ছে।একটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম বাড়ির সামনে গেটের উপরে বড় করে লেখা শুভ বিবাহ।তার মানে এইটা বিয়ে বাড়ি!বাড়ির ভিতর থেকে অনেক ধরনের খাবারের সুগন্ধ আসছে।লোভ সামলাতে না পেরে ঢুকে পড়লাম বাড়ির ভিতর।বন্যা আমাকে ডাকতে ডাকতে সেও ঢুকে পড়লো।

বিয়ার দাওয়াত ছাড়া খেতে চলে এসেছি কেউ জানলে সমস্যা হতে পারে তাই তারাতাড়ি খাবার টেবিলে বসে পড়লাম।চারপাশে যে যার মতো করে খাবার খাচ্ছেন।আমার পাশে বন্যা বসে পড়লো।আমি কিছু বললাম নাহ্।একজন লোক আমাদের কে পোলাও দিয়ে গেলেন।এরপর আরেকজন এসে ডাল দিতে যাবে,এমন সময় একজন ব্যক্তি এসে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন।






#পর্ব_৫

লেখক_আকাশ_দাস


 দাড়া বলছি!ন হলে গুলি করে দিবো দাড়া।এই ধর ধর পালালো!  আমি আর বন্যা রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছি সামনের দিকে।আমাদের পিছনে রিমি ও তার ছেলে"পেলে দৌড়াচ্ছে আমাদের ধরার জন্য।সন্ধা হয়ে গেছে জোরে জোরে বাতাস বইছে তার সাথে বৃষ্টি হয়েই চলেছে।এই বৃষ্টির রাতে আমি আর বন্যা ঘামছি ভয়ে।   (আপনারা হয় তো কিছু বুঝতে পারছেন না কই থেকে কই চলে গেছি তাই তো!  —কিছুক্ষণ আগের ঘটনা  যখন আমার প্লেটে ডাল দিতে যাবেন তখন এক ব্যক্তি চিল্লাতে চিল্লাতে বলতে লাগলেন_ বর পালিয়েছে বর পালিয়েছে রে পালিয়েছে।সবাই কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় সব নিরব ভূমিকা পালন করে।কিছু মানুষ ছুটে চলল বাড়ির ভিতর।আমাকে যে ব্যক্তি ডাল দিচ্ছিলেন সে বাল্টি ফেলে দৌড়ে চলে যান বাড়ির ভিতর।আমি এই সময় ডাল নিয়ে খেতে লাগলাম।অনেকে তো খাবার খাচ্ছেন আমিও তাহলে খাই।যার বিয়ে হচ্ছে তাদের সমস্যা এটা আমার বা অন্য কারো দেখার বিষয় নাহ্।এটাই বাস্তব রূপে দেখা যায় সবাই তো বিয়ে বাড়ি খেতেই আসেন তাছাড়া আর কিছু না আর বিয়ের কোন জিনিস কমতি সেটা খুচিয়ে খুচিয়ে বের করে গ্রামে বলে বেরার।সরম লজ্জা ভুলে নিজের হাতে সব নিয়ে খেলাম আমাদের দিকে কারো নজর নেই।একবার বন্যার দিকে তাকালাম।একটা মেয়ে কতটা খুদার্ত  থাকলে এভাবে একটা বিয়ে বাড়িতে খেতে পারেন আমার সেটা জানা নেই।বন্যা একদম।আমরা খাবার খেয়ে চলে আসলাম রাস্তায়।বিয়ে বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে।মেয়ের রুমে ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন মেয়েটা।কারণ ভালোবাসা মেয়েটি ও ছেলেটির বিবাহ হচ্ছিল প্রেম করে।মেয়েটি ছেলের জন্য পাগল ছিল অনেক ভালোবাসতো বলে।কিন্তু ছেলেটা শেষ সময়ে মেয়েটিকে একা ছেড়ে চলে যআয় আর অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেন।মেয়েটা এটা মানতে পারিনি বোধহয় তাই নিজেকে শেষ করে দিয়েছে। এমন এখন অনেক ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটছ। এটা কোন গল্প নই বাস্তব রে ভাই😅। আমি বন্যা হেটে যাচ্ছিলাম আমাদের সামনে হটাৎ রিমির দল-বল চলে আসে আর আমাদের মারার জন্য চেচেষ্টা করেন।কিন্তু আমরা পালিয়ে আসি সেখান থেকে এরপর সব জানেনি।  যেতো এগিয়ে যাচ্ছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি আগে এখানে এসেছিলাম।হ্যাঁ মনে পড়েছে রিমির  থেকে পালিয়ে এই রাস্তা দিয়েই প্রথম বার গিয়ে ছিলাম।তাহলে সামনে একটা নদী পড়ার কথা।বন্যা শুনো সামনেই একটা নদী আছে সেখান দিয়েই পালাতে হবে আমাদের।বন্যা বলল... নদী দিয়ে কিভাবে পালাবো?!সামনে গেলেই দেখতে পাবা নদীর পারে নেমে পড়লাম।একটুর জন্য পা পিচিলে গিয়েছিলাম।এ-কি নদীর পানি এতো ভাড়লো কিভাবে।তারমধ্যে বড় বড় ঢেউ।বন্যা বলল,, আমরা কি সাতার কেটে এই নদীর উপারে যাবো নাকি।  আমি:হ্যাঁ ঠিক ভেবেছো।  বন্যা:কিন্তু সাতার কেটে এতো বড় নদী পার করা সম্ভব নাহ্? আমি:নৌকা আছে সামনে চলো।তারাতাড়ি এখান থেকে পালিয়ে যেতে হবে না হলে রিমির দল-বল ও সেই ছেলেগুলো চলে আসবে।আমাদের সামনেই অনেক নৌকা বাধা আছে।সেখান থেকে উপরে চালওয়ালা একটা নৌকায় উঠে পড়লাম।এই দিকে রিমির - দল-বল চলে আসছেন।  রিমি_দাড়া বলছি তোর জন্য আমার বস ও অনেক লোক মরেছে তোকে না মেরে শান্তি নেই। সেই দিকে খেয়াল না করে আমি নৌকা চালাতে লাগলাম।তবে এর মধ্যে একটা বিপদ হলো।মাঝ নদীতে তারাতাড়ি করে ভৈয়টে চালাতে গিয়ে ভুলে হাত থেকে ভৈটে পানিতে ভেসে যায় আর নৌকাটি সামনের দিকে যেতে থাকে।দূর আমার সাথেই এসব হওয়ার ছিল।আজ নিচিন্ত মারা পড়ব। তবে এই মেয়ে বন্যার কি দুষ ছিল বেচারি আমার জন্য মরতে চলেছে।এই কদিনে মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছি।মেয়েটির চোখে একটা জাদু আছে তাকালে তাকিয়েই থাকতে মন চাই।কথায় বলে মেয়েরা তাদের চোখ দিয়েই হাজার হাজার ছেলেকে হত্যা করতে পারেন। ঠাস করে একটা শব্দ হলো"রিমি আমাদের দিকে গুলি করে আমার দুই হাত দূর দিয়ে গুলিটা চলে গেল।বুক দুপ দুপ করছে।রিমি তাদের নৌকা নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন।আমার এখন একটা বইটে লাগবে না হলে তারা আমাকে ধরে ফেলবে।নৌকার এক কোনায় এক কাঠের টুকরো দেখলাম সেটা আপাতত বইটে হিসাবে ব্যবহার করছি।বৃষ্টির পড়ছে সেই জলে বা পানিতে নৌকায় অনেক ভাড়ি হচ্ছে।তার জন্য এগিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে।আর চালাতেও।বন্যা নৌকার জল নদীতে বাটি দিয়ে ফেলছে।এই নৌকার ভিতর অনেক প্রয়োজনি জিনিস আছে।যেসব পড়ে কাজে লাগতে পারে।হটাৎ খেয়াল করলাম।রিমিদের দল-ভারতে লাগলে তিনটি নৌকা আসছে আমাদের পিছনে।আমাদের সামনে দুইটি নদীর রাস্তা বা পথ পড়লো। আগের বার ডান দিক দিয়ে গিয়ে ছিলাম যার কারণে জঙ্গলে দিয়া যাওয়া লাগছিল আর অনেক বিপদের সামনে  পড়তে হয়েছিল।  এবার বা দিক দিয়ে নৌকা চালাতে লাগলাম।দেখি এই দিক টাই কি আছে।বন্যা এবার আমাকে সাহায্য করতে লাগলো।বন্যা আরেকটা কাটের টুকরো তুলে নিয়ে চালাতে লাগলো।আমি কিছুক্ষনের জন্য জিরিয়ে নিলাম। চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম।চারপাশে কোন গাছ পালা নেই খোলা মাঠ তার মাঝ দিয়ে নদীটা গিয়েছে।আশেপাশে কোন ঘর বাড়ি আছে বলে মনে হয় না। রিমির দল-বল আমাদের থেকে অনেকটা দূরে কারণ তাদের একক নৌকায় চার বা পাঁচজন করে লোক আসছেন।তাই ধীরে আসছেন আর আমাদের সাথে পেরে উঠছে না।বৃষ্টি কমেনি আরও বেশি করে বৃষ্টি হচ্ছে।বন্যা মেয়েটা অনেক কাজের আছে।সে রাস্তায় পড়ে থাকা পাকা আম আসতে সময় তোলে নিয়েছিল।সেগুলো নৌকার এক কোনায় রেখে দিয়েছে।বন্যা কিছুক্ষণ পর পর  বৃষ্টির জল নৌকায় জমে থাকা সেগুলো নদীতে ফেলে দিচ্ছে।হটাৎ একটা বড় গলদা চিংড়ি মাছ নৌকার উপর লাফ দিয়ে এসে লাফাতে শুরু করলো বন্যা ভয় পেয়ে পিছনে গেল।আমি টপ করে মাছটি ধরে ফেললাম।এরপর নৌকার নিচ তোলে রেখে দিলাম।আবার নৌকা চালাতে লাগলাম।চিংড়ি মাছ আমার খুব প্রিয় মাছ।নদীর পানি ভারতে লাগলো।এখন নদীর পানি মাঠে উঠে গেছে।মনে হচ্ছে এখানে বন্যা হবে সব তলিয়ে নিবে।বড় বড় ঢেউ নৌকা হেলে দুলে সামনের দিকে চলছে। মনে হচ্ছে কোন দুলোনাই বসে আছি।এইবার নৌকাটা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো   ।অন্য দিকে রিমির দলের দুইজন লোক নদীর পারে সাতার কেটে মাঠে উঠলে। এবং মাঠের মাঝ দিয়ে আমাদের দিকে দৌড়ে এসে নদীতে লাফ দেয়।বন্যা ভয় পেয়ে যায়।আমি তাকে বললাম।ভয় পেয়ো না কাঠের টুকরো শক্ত করে ধরে রাখো যখন তারা নৌকায় উঠতে যাবে মাথায় ভারি মারবে ওকে।  -আচ্ছা -হুম রেডি থাকো ঠাসস যখন তারা নৌকাতে উঠতে যাবেন তখনি মাথায় ভারি মারলাম।তাতেই তারা জ্ঞান হারিয়ে




 



Comments